লেখালেখি শেখার স্বাভাবিক পদ্ধতি হলো:
১. সর্বজন স্বীকৃত সাহিত্যিকদের গদ্য ও পদ্য স্বাদ নিয়ে নিয়ে প্রচুর পরিমাণে পড়তে থাকা।
২. প্রচুর পরিমাণে লেখা, যত্ন নিয়ে লেখা, সাহিত্যিকদের লেখার সৌন্দর্য অনুধাবন করে নিজের লেখায় তাদের অনুসরণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকা।
৩. নিজের লেখার মায়ায় না পড়ে তার উন্নতির চিন্তায় নিজেই তার কঠিন থেকে কঠিন সমালোচক হওয়া, নিজ সময়ের ভালো লেখকদের কাছে নিজের লেখা পেশ করে তাদের সার্বিক ও বিশদ পর্যালোচনা আদায় করা এবং পরবর্তী লেখায় সেগুলো আমলে নেওয়া।
লেখা শেখার উপরোক্ত পদ্ধতিই হলো সহজাত ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি। এর মৌলিক কাঠামো সবে মোটে তিনটি হলেও এর রয়েছে অনেক শাখা প্রশাখা। কী পড়ব ও কীভাবে পড়ব, কী লিখবো ও কীভাবে লিখবো এবং কী সংশোধন করবো ও কীভাবে সংশোধন করবো এই প্রশ্নগুলোর সদুত্তর যেমন দীর্ঘ তেমন কঠিনও বটে। ফলে প্রাথমিক স্তরের ব্যক্তির জন্য এক্ষেত্রে প্রয়োজন এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ঋদ্ধ দিকনির্দেশনার যিনি এই ধাপগুলো অতিক্রম করে এসেছেন। অন্যথায় এই ধাপ পার হওয়া তার জন্য অনেক বিপদসংকুল হয়ে উঠবে। এই জন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণও লেখালেখি শেখার দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। নতুনদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা ঝুড়ি থেকে অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দেন।
আরবী তুরাসে এই বিষয়ক অভিজ্ঞতা প্রচুর পরিমাণে লিপিবদ্ধ হয়েছে। আবু হেলাল আসকারীর كتاب الصناعتين, কলকশান্দির صبح الأعشى في صناعة الإنشاء, জিয়াউদ্দীন ইবনুল আসীরের المثل السائر ইত্যাদির মত কিছু স্বতন্ত্র কিতাবও এ নিয়ে রচিত হয়েছে। গত শতাব্দীতে এসে এই বিষয়ের স্বতন্ত্র রচনার পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। যেমন, লেখালেখি বিষয়ক মোটা মোটা দিকনির্দেশনাগুলো নিয়ে তুরাসী ধারায় রচিত হয়েছে মুহাম্মদ দাইয়াবের الإنشاء النظري ও ইবনে আশুরের أصول الإنشاء والخطابة। এ বিষয়ক চমৎকার ও সহজ ভাষায় রচিত খলীল মারদামের محاضرات الخليل في الإنشاء العربي কিতাব যা মূলত দরস সংকলন তা বেশ ভালো। এই বিষয়ক বিস্তারিত কিতাব হিসেবে লুওয়াইস শাইখুর علم الأدب ও মুহাম্মদ আব্দুর রহিম তাররাহ এর حديقة الأدب في صناعة إنشاء العرب কিতাব দুটিকে গণ্য করা যায়। নিয়ম ও অনুশীলনের সমন্বয়ে এই বিষয়ে রচিত হয়েছে নাজীব হাবীকার درجات الإنشاء কিতাবটি। শুধু অনুশীলনের উদ্দেশ্যে নুসুস উল্লেখ করে রচিত হয়েছে সাঈদ খূরীর الشهاب الثاقب في صناعة الكاتب, আব্দুল বাসিত আনিসীর أبدع الأساليب في إنشاء الرسائل والمكاتيب আহমাদ হাশেমীর ديوان الإنشاء, রাফেয়ীর ملكة الإنشاء, আলী রেজার الإنشاء الواضح, আব্দুল্লাহ হামদের المفيد في الإنشاء, খলীল হিন্দাবীর تسير الإنشاء সহ অগণিত কিতাব। লেখালেখি শেখানোর পাঠদান পদ্ধতি নিয়েও রচিত হয়েছে কামেল কীলানীর فن الكتابة। আর বর্তমান শতাব্দীর কথা তো বলাই বাহুল্য। আরব আজমে এই বিষয়ের রচনার যেন ঢল বইয়ে গেছে।
কয়েক মাস আগে ইযযুদ্দীন তানুখী (মৃ. ১৩৮৬) এর دروس في صناعة الإنشاء নতুনভাবে আব্দুর রহমান কায়েদের তাহকীকে ছেপে এসেছে দেখলাম। তানুখীর পরিচয় নাম আমি প্রথম পেয়েছি আলী তানতাবীর কাছে তার ذكريات ও صور وخواطر কিতাবে। তিনি বলেছেন,
الأديب العالم اللغوي العروضي الذي جمع من المزايا ما لو وزع على عدد من النابغين لخلد به ذكرهم... والأستاذ عز الدين التنوخي لم يعط حقه من الكتابة عنه ومن دراسة أدبه...
صحبته أمدًا طويلا، ... وهو عالم بالعربية، كاتب شاعر درس حينا في الأزهر، وحينا في فرنسا ونال منها شهادة في الزراعة، يُحسن الفرنسية، اشتغل بالتدريس في العراق وفي سوريا، وهو الذي وضع كلمة الفيزياء للفيزيك، وكلمة برمائية لحيوانات البر والماء، ووضع مصطلحات كثيرة، وكان من أقدم من ألف الكتب المدرسية، ... والأستاذ التنوخي صافي القلب، صادق الود، سهل المعاشرة، حاضر الجواب، بعيد عن التكلف
আরবী সাহিত্যের চলার পথে আমি আলী তানতাবীকে মুরুব্বী মানি। তিনি যদি কারো ব্যাপারে এতটা প্রশংসা করেন তাহলে তার আরবী ভাষা কেন্দ্রীক কোনো কিতাব না পড়ে কি থাকা যায়! আলহামদুলিল্লাহ গত বুধবার রাতে মক্কার দারুল আমাল থেকে কিতাবটি সংগ্রহ করি এবং গতকাল মুতালাআ করে শেষ করি।
আরবী ভাষায় লেখালেখি শেখার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিতাব এটি। লেখক আরবী ভাষায় অনেক বড় পণ্ডিত ছিলেন। আধুনিক বিজ্ঞানের পরিভাষা সহ অনেক নতুন আবিস্কারের আরবী শব্দ তিনিই তৈরি করেছেন। একাধিক দেশের مجمع اللغة العربية এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ফরাসী সাহিত্যেও ভালো দখল ছিলো। ছাত্রদের লেখালেখি শেখানোর কাজেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিলো। তার এই সকল গুণই এই কিতাবটিতে প্রভাব ফেলেছে এবং তানজীর ও তাতবীকের চমৎকার সমন্বয় এতে ঘটেছে। সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম এমন অনেক দিকনির্দেশনা এতে এসেছে যা অন্য কোথাও খুব একটা পাওয়া যায় না।
ফলে এর প্রশংসা করে শায়খ বাহজা আসারী লিখেছেন,
يروقك من هذا الكتاب جمعه بين الأدبين العربي والغربي، وإبداع تبويبه وتصنيفه، وجدة أبحاثه المستطرفة، وطريقته المدرسية، حتى لا تكاد تمتري في أنه أول كتاب ألف في العربية بهذا الأسلوب الرائق. وقد أفرغ أبو قيس فيه زبدة مادته الفياضة وثمرة تجاربه الناضجة، .... وإذا ما دعوت الناس إلى اقتناء كتابه فلست أقصد بذلك الإعلان عنه، أو إرضاء المؤلف عني، وإنما أقصد خدمة قومي بإرشادهم إلى ما فيه فائدتهم ولذتهم
আব্দুল কাদের মাগরিবী এর ব্যাপারে লিখেছেন,
وفى المصنف ما وعد به، فكان يقتبس من كتاب المثل السائر وغيره من أمهات كتب الأدب العربي أطواقا وقلائد حلى بها جيد ما ترجمه من كتاب موريس غوريس، وقد أصبحکتابه بذلك مجمع البحرين، وملتقى الأدبين الفائز بالحسنيين، ... فبهذا الاعتبار كان كتاب دروس في الإنشاء أول كتاب صنف في هذا الفن بلغتنا العربية على ما أظن، ومن ثم كان فيه عناوين جديدة، واصطلاحات جديدة، وتقاسيم جديدة، وطرائق في إحكام ملكة الإنشاء جديدة
যারা ভবিষ্যতে আরবী ভাষায় লেখালেখি করতে চান, যারা বর্তমানে আরবী ভাষায় লিখছেন এবং যারা আরবী ভাষায় লেখালেখি শেখাতে চান বা শেখাচ্ছেন সবাইকেই অনুরোধ করব কিতাবটি পড়তে। আশা করি সকলেই উপকৃত হবেন।



